সোমবার ২০ মে ২০২৪ ০৩:২৮:৫১ অপরাহ্ণ

শিরোনাম

 সিনিয়র সহকারী সচিব হলেন দাগনভূঞার সাবেক এসিল্যান্ড মেহরাজ     দাগনভূঞায় ক্রীড়া, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ     কেএনএফের নারী শাখার প্রধান সমন্বয়ক গ্রেপ্তার     নবীকে নিয়ে ক'টু'ক্তি করায় ফেনীর কাঁচা সবজির আড়তে বাদল নামের একজনকে গণধোলাই     উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ফেনীর দাগনভূঞায় আনসার ও ভিডিপি সদস্য বাছাই     সোনাগাজী উপজেলা পরিষদ নির্বাচন প্রতীক পেয়ে মাঠে নেমেছেন প্রার্থীরা     সোনালী ব্যাংক নবাবপুর শাখার জন্য জিএম, ডিজিএম এর স্কুল মার্কেট পরিদর্শন     নবাবপুর ইউনিয়নের পল্লী বিদ্যুৎ এ কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য মধ্যহ্নভোজের আয়োজন     ভাইস চেয়ারম্যান পদে বিনাপ্রতিদ্বন্ধিতায় নির্বাচিত খোদেজা খানম শাহিন গনি     সোনাগাজীর বগাদানায় ঘূর্নিঝড়ে ভেঙে পড়ছে দিনমজুরের ঘর,   

আজ পহেলা আষাঢ়, বর্ষার প্রথম দিনের বৃষ্টিতে নগরবাসীর মনে স্বস্তি

প্রকাশ : জুন ১৫, ২০১৯ | সময় : ৩:২৫ অপরাহ্ণ

ইমরান হোসেন রমজান

গত কয়েকদিন তীব্র দাবদাহ  নগরবাসীর জীবনকে করে তুলেছিল বিষন্ন। টানা গরমের  পর আজ শনিবার সকালে রাজধানী ঢাকায় নেমেছে বৃষ্টি। আষাঢ় মাসের প্রথম দিন আজ। আষাঢ় এবং শ্রাবণ মিলে বর্ষাকাল। তাই ধরা যায় বর্ষার প্রথম বৃষ্টি। এই বৃষ্টিতে স্বস্তি মিলেছে নগরবাসীর। তবে অফিসগামী পথচারীরা কিছুটা বিপাকে পড়েন।

 

গত ২-৩ দিন ঢাকায় ছিল গুমোট গরম। আকাশ মেঘলা থাকলেও বৃষ্টি হয়নি। আজ সকাল সাতটার কিছু পরে স্বস্তির  বৃষ্টি নামে। আজ শনিবার সরকারি ছুটির দিন হলেও বেসরকারি অনেক অফিস খোলা। তাই অফিসগামী মানুষ ও পথচারীদের  গন্তব্যস্থলে যেতে কিছুটা অসুবিধার মুখে পরে। তবে গরমের পর এই বৃষ্টি নগর জীবনে আশির্বাদই ধরা যায়।

 

“নীল নবঘনে আষাঢ়গগনে তিল ঠাঁই আর নাহি রে।

ওগো, আজ তোরা যাস নে ঘরের বাহিরে।

বাদলের ধারা ঝরে ঝরঝর,

আউশের ক্ষেত জলে ভরভর,”

বর্ষা নিয়ে কবি গুরুর আষাঢ় কবিতাখানি মনে হয়  প্রকৃতিকে নতুন করে স্বাগত জানালো। বৃষ্টির সাথে হালকা বাতাস তপ্ত হয়ে ওঠা নগরকে শীতল করে দিল এই যেন আগুনে পানি ঢালা।

 

 

বাংলা বর্ষের দ্বিতীয় ঋতু এবং এর স্থিতি আষাঢ় ও শ্রাবণ (জুন মাসের মাঝামাঝি থেকে আগস্ট মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত) এ দু মাস। প্রকৃতপক্ষে বৈশাখের শেষ থেকে কার্তিকের প্রথম ভাগ (অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে নভেম্বরের মাঝামাঝি) পর্যন্ত বর্ষার ব্যাপ্তি থাকে।বর্ষাকালে আবহাওয়া সর্বদা উষ্ণ থাকে। এ সময় দেশের উপর দিয়ে প্রবাহিত দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয়বাষ্প বহন করে আনে যার প্রভাবে বর্ষার আকাশ প্রায়ই মেঘাচ্ছন্ন থাকে এবং প্রচুর বৃষ্টিপাত সংঘটিত হয়। বার্ষিক মোট বৃষ্টিপাতের ৮০ ভাগেরও অধিক বর্ষাকালেই সংঘটিত হয়ে থাকে। অত্যধিক বৃষ্টিপাতের দরুণ অধিকাংশ প্লাবনভূমিই বর্ষাকালে প্লাবিত হয়ে পড়ে। স্থানীয় উচ্চতা ভেদে বন্যার গভীরতা ও স্থায়িত্বকাল দেশের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন হয়ে থাকে। এ সময় গ্রামাঞ্চলে যাতায়াতের জন্য  নৌকা হয়ে ওঠে প্রধান মাধ্যম।

 

গ্রীষ্মের প্রখর উত্তাপে শুষ্ক ও মৃতপ্রায় বৃক্ষলতা, তৃণ প্রভৃতি বর্ষার শীতল জলধারায় নবজীবন লাভ করে। তখন পল্লী প্রকৃতির সর্বত্র সবুজের সমারোহ দেখা যায়। বর্ষায় চারদিকে পানি থৈ থৈ করে। নদী-নালা, খাল-বিল ও পুকুর-ডোবা কানায় কানায় ভরে ওঠে। বিলে বিলে হেলেঞ্চা ও কলমিলতার সমারোহ দেখা যায়। আরও দেখা যায় জাতীয় ফুল  শাপলা-র সমারোহ। বর্ষাকালে কেয়া, কদম, কামিনী, জুঁই, গন্ধরাজ প্রভৃতি সুগন্ধি ফুল প্রস্ফুটিত হয় এবং পেয়ারা, আনারস, বাতাবি লেবু প্রভৃতি ফল প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। এ সময় হাটে-বাজারে প্রচুর  ইলিশ মাছ পাওয়া যায়।

 

বর্ষার শুরুতে কৃষককুল সোনালি অাঁশ  পাট ঘরে তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে এবং বন্যামুক্ত অথবা স্বল্প প্লাবিত এলাকায় ধানের নতুন চারা রোপণ করে। বর্ষার বারিধারা লোকালয়ের আবর্জনা ধুয়েমুছে দেয় এবং দূষিত বায়ু বিশুদ্ধ করে। বর্ষাই এ দেশকে সুজলা-সুফলা ও শস্য-শ্যামলা করেছে।